কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩

কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী ( ১৯৩৭ - ২০০৫ )

সপ্তডিঙা মধুকর চারিদিকে জল
শ্রাবণের অবিশ্রাম মনসা-মঙ্গল
পচা পাটে এঁদো ডোবা বিষধর ফণা
ছেঁড়া কাঁথা-কাণি আর বাহুলা-যন্ত্রণা
হু হু করা কালসন্ধ্যা ভেসে আসা গানে
সায়ের ঝিয়ারি যায় অনন্ত ভাসানে ।
কোথায় নিছনি কোথা চম্পক-নগর
সাতনরী শিকা ঝোলে ঘরের ভিতর
কুপিলম্পে রাতকানা নিরক্ষরা বুড়ি
লখা’র মরণে কান্দে আছুড়ি-পিছুড়ি
জাল-টানা ছেলে আজ রাতে গেছে জলে
রেখো মা মনসা তার সর্বাঙ্গ কুশলে ।
গাঙের গর্ভিণী সেই গন্ধ ভেসে আসে
শ্রাবণীর দিগম্বরা দখিনা বাতাসে
এখনো বুকের দ্বিজ বংশীদাস কহে
হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কালীদহে…
ডহরের ঘোর-লাগা গহনের টানে
সায়ের ঝিয়ারি যায় অনন্ত ভাসানে ।

শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১২

সপ্তমীর কবিতা

সপ্তমীর দুপুরে, ঠিক এমনি 

অপেক্ষায় ছিল ছেলেটা। 

শরতের ঝলমলে রোদ্দুরে গা ভিজিয়ে, 

ষোড়শী  কবিতা আসবে বলে।


জ্বরে পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে ,

জানলার ধার ঘেঁষে সারাটা দিন 

শুনেছিল আগমনী গান ।


একে একে ল্যাম্পপোস্ট গুলো 

বারোয়ারি সজ্জায় 

সুপুরুষ হয়ে ওঠার পরও-

একে একে ম্যাকআপময় 

মফঃস্বলই নীল-পরিরা

খল-খলিয়ে যাওয়ার পরও- 

একে একে পাড়ার দামি গাড়ীগুলো

ভাঙ্গা রাস্তার ধুলো উড়িয়ে

পুজো দেখতে যাওয়ার পরও-


প্রতীক্ষিত কবিতা আসেনি

শুধু রাত্রি এসে মুখ রেখে ছিল

ছেলেটার বিষণ্ণ জানলায়।

মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১১

মিত্রা দিদি

'ঝাউ গাছের পাতা, তোমার মিত্রা দিদি ভালতো শিলচরে?' - জয় গোস্বামী


মিত্রা দিদি, তোমাকে নিয়ে কাব্য
লেখেনি কোন পুরুষ কোন দিন।
গলির মোড়ে বাজেনি সম্মিলিত
শীৎকার,  বখাটে ছেলেদের।


তোমাকে দেখতে আসেনি পাত্রপক্ষ, 
এসেছিল শুধু মেপে নিতে,
তোমার বুক, চুল, নিতম্ব
যাবতীয় সব শারিরিক।


কত বার গেছ তুমি কামরূপ-কামাক্ষা ?
কত বার ছুঁয়েছ তুমি কাম পীঠে সিঁদুর ?
কত বার পাল্টেছ জ্যোতিষি তুমি ?
কত বার করিয়েছ জাদুটোনা ?


কত যুগ  উপবাসী তুমি ঢেলেছ  দুগ্ধ,
সুগঠিত  শিবলিঙ্গে ?


সে খবর জানে শুধু,
একলা রাতের পাশ বালিশ।

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

ইচ্ছে ডানা

---------------------------------------------
'যে উড়ে চলেছে, সে কেউ নয়, কিছু নয় - সে কেবল কবি'- জয় গোস্বামী
--------------------------------------------

ইচ্ছে করলেই লেখা যেত,
একটি মন ভাল করা প্রেমের কবিতা।
অলঙ্কারে-অনুপ্রাসে, নরম মোমের আলোয়,
লেখা যেত একটি রোমান্টিক
ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের মনোরম বিবরণ।


ইচ্ছে করলেই ঝিলের মতো শান্ত বালিকা,
সকল নীরবতার অবসান ঘটিয়ে,
বৃষ্টিভেজা শ্রাবণ দিনের রঙধনু হয়ে,
ঝরণার মতো হেসে যেতে পারতো অকারণে।


ইচ্ছে করলেই বাঁধনহারা এক ঝাঁক শব্দ,
সাইকেল বালক হয়ে চলে যেতে পারতো,
কলেজ রোডের ঐ বাড়িটার ধারে,
যার আকর্ষন ছিল চুম্বকের চেয়েও বেশী।


কৈশোর ও যৌবনের সীমাহীন দারিদ্রতায়,
ভাড়া বাড়ীর জানলায় একা  দাড়িয়ে,
সাবলীল চাঁদের জ্যোৎস্নায় ভিজতে ভিজতে,
আমাদের ইচ্ছে গুলো কখনও উড়তে শেখেনি।


আমরা কেউ কবি হতে পারিনি।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

প্রজন্ম

হাটি হাটি পা পা করছে যে প্রজন্ম
তার কানে কানে বলেছি গতকাল,

আমাদের কোন মানচিত্র নেই,
আমাদের কোন পতাকা নেই,
আমাদের  প্রিয় কোন নেতা নেই,


ছায়াপথের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটি
আমাদের কেউ নয়।


তাকে আরও বলেছি,
আমাদের গোয়াল ভরা গরু ছিল,
ছিল দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ, 
ছিল সোনালী অতীত।

খুঁজে দেখো ধামাইলের সুরে,
রাধা রমনের মন মুনিয়ায়।

গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের বিস্তীর্ণতায়
খুঁজে দেখো,

আমাদের হারিয়ে যাওয়া পদচিহ্ন,

যদি ইচ্ছে হয়।

১৯শে জুলাই, ২০১১
বেঙ্গালোর, কর্ণাটক

রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১০

শব্দগুচ্ছ

শব্দগুচ্ছ লিখে রাখো
যৌবন... উলটো হাওয়া... অস্থির সময়

রৌদ্রজ্জ্বল পাণ্ডুলিপি ম্যাচো হয়ে ওঠো
সঙ্গম এর উচ্চ শিখরে

স্খলনের শূন্যতা নয়, লিখে রাখো
অষ্টের  স্বাদ... মাতাল নিঃশ্বাস... নখের আঁচড়

পু ন র্মি ল ন 🍂

  দেখা হলো মুঠোফোনে! 'জীবন গিয়েছে কুড়ি-কুড়ি বছরের পার'! না তার থেকেও বেশী হবে? ফিরে ফিরে আসে কাঠালতলা-কুসুম ভোর, মনপড়ে বয়েস হোষ্ট...